সব
ঢাকা Translate Bangla Font Problem

টঙ্গীতে প্রাইভেট হাসপাতালের প্রতিনিধির কারণে অতিষ্ঠ সরকারি হাসপাতালের রোগীরা

AUTHOR: Firoz
POSTED: Wednesday 11th December 2019at 2:24 pm
215 Views

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি : টঙ্গীতে প্রাইভেট হাসপতালের প্রতিনিধিদের কারনে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের (টঙ্গী সরকারি হাসপাতাল) রোগীরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকারি হাসপাতালের আশপাশে অবস্থিত বেসরকারি প্রাইভেট হাসপাতালের প্রতিনিধিরা রোগীদের উন্নত চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। সরকারি হাসপাতাল স্টাফদের যোগসাজশে কয়েক শতাধিক প্রতিনিধি তৎপর রয়েছেন টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল।

টঙ্গীতে আর কোনো সরকারি হাসপাতাল না থাকায় নিম্ন আয়ের মানুষ স্বল্প ব্যয়ে চিকিৎসা নিতে ছুটে আসেন পাড়া-মহল্লা থেকে এই সরকারি হাসপাতালে। অথচ চিকিৎসা নিতে আসা এসব রোগী প্রাইভেট হাসপাতালের প্রতিনিধিদের খপ্পরে পড়ে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সরেজমিনে জানা যায়, উত্তরাসহ টঙ্গী স্টেশন রোডের বেশ কয়েকটি প্রাইভেট ডায়াগনিষ্টিক কাম হাসপাতালের প্রতিনিধিরা সরকারি হাসপাতালের ভিতরে ও মূল ফটকে বসে থাকে এবং রোগী আসতে দেখলেই টানাটানি করতে থাকে। তাদের হাসপাতালের বিভিন্ন পরিক্ষার স্লীপ সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারদের চেম্বারের সামনে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এছাড়াও বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে সামনে বসে খোজগল্প করতে দেখা যায় এবং ডাক্তার ও কোম্পানীর প্রতিনিধির সাথে ডাক্তারদের যোগসাজসে নি¤œমানের ঔষধ স্লিপে লেখা হয়। এলাকাবাসী আরো জানান, ঢাকা কার্ডিয়াল হাসপাতাল টঙ্গী হাসপাতালের জরুরী বিভাগে একটি এসি উপহার দেন। এতে রোগীরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়।

টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের রোগীর বলেন, বেসরকারি হাসপাতালের দালাল নামক কিছু ভয়ানক মানুষ হাসপাতালের ইমারজেন্সিতে ও ডাক্তারদের চেম্বারে চেম্বারে ঘুরে বেড়ায়। টঙ্গীর নি¤œ আয়ের গার্মেন্টস শ্রমিক গরিব ও অসহায় রোগীদের বুঝিয়ে নিয়ে যায় তা না, কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যপারটা আরও ভায়াবহ। বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে তারা পথে বসে যায়। সরকারি হাসপাতালে কোন রোগের পরিক্ষা করাতে যা খবচ হয় তার চেয়ে তিনগুন খরচ হয় বেসরকারি হাসপাতালে। সরকারি হাসপাতালের কিছু স্টাফ ও ডাক্তার এর সাথে জড়িত। তারা এ কাজের জন্য প্রতিমাসে মোটা অংকের একটা কমিশন তাদের কাছ থেকে পেয়ে থাকে।

শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মাসুদ রানা বলেন, প্রাইভেট ক্লিনিকের লোকজন এখান থেকে পরিক্ষার কোন সিলিভ দেওয়া হয় না। তারা যদি বাহির থেকে নিয়ে থাকে তাহলে তাদের ব্যপার।

টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. পারভেজ হোসেন বলেন, দিন দিন প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে দালালও বাড়ছে। এ ব্যপারে জিরো টলারেন্স। কয়েকবার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই হাসপাতলে সে পরিক্ষাগুলো হয়। সেগুলো যদি প্রাইভেট হাসপাতালে যায় তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর