সব
ঢাকা Translate Bangla Font Problem

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া সেই পুলিশ সার্জেন্ট জনি

AUTHOR: Amarbangla Desk
POSTED: Thursday 14th November 2019at 12:23 pm
1699 Views

আমারবাংলা ডেস্ক রিপোর্টঃ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক উওর বিভাগ, এয়ারপোর্ট জোনের সার্জেন্ট জনির ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। গত কয়েক দিন আগে মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ রিপন নামে এক ব্যক্তি ছবিটি ফেসবুকে দেয়ার পর থেকে বিভিন্ন সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়ে।

মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ রিপন ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে দেয়া হলোঃ

আজ আবার সকালে মেয়েকে স্কুলে নামিয়ে দিতে যাওয়ার সময় খিলক্ষেত বাস স্ট্যান্ড এ দায়িত্বরত অবস্হায় পেলাম ঐ ট্রাফিক সার্জেন্ট কে , যাকে নিয়ে গত পরশু আমি নিচের পোস্টখানি দিয়েছিলাম । ধন্যবাদ দিতে নেমে জানলাম , উনার নাম সার্জেন্ট জনি । উনার সকল সহকর্মীদের খুব আন্তরিক মনে হলো , বললেন যে কোন সমস্যায় যে কেউ আমাদের সাহায্য চাইলে আমরা সাহায্য করার চেস্টা করি ।সেলফি তোলার ইচ্ছা সংবরন করতে পারিনি । আপনাদের উদ্দেশ্যে ছবি পোস্ট করলাম ।
“”””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””
পুলিশ বা ট্রাফিক পুলিশ মানেই খারাপ , অসৎ,দুর্নীতিবাজ বা অমানবিক এ জাতীয় কত কথাই না অবলীলায় বলে থাকি বা মনে পোষন করি আমরা। হাতের আংগুলের মতো সব পুলিশ যে সমান বা এক না তা আজ বাস্তবে প্রমান পেলাম ।

উত্তরা থেকে বসুন্ধরা ভিকারুন নিসা স্কুলে যেতে হবে মেয়ের এস এস সি টেস্ট পরীক্ষা বলে । পরীক্ষা শুরু সকাল ৯ টায় । প্রচন্ড জ্যাম ঠেলে ৯.৩০ টায় কুড়িল ফ্লাই ওভারে উঠতে গিয়ে দেখলাম ফ্লাই ওভার বন্ধ , ফ্লাইওভারে এক্সিডেন্ট হয়েছে বলে গাড়ি ঘুরিয়ে দিচ্ছে সোজা বনানীর দিকে ।

মাথায় বাজ পড়ার মতো অবস্হা কারণ সামনে প্রচন্ড জ্যাম , গাড়ি নড়েই না যেন, তারপর হোটেল রেডিসনের সামনে ঘুরতে হবে ভেবেই মেয়ে গাড়ির ভিতর কান্না জুড়ে দিল এই বলে যে ,টেস্ট পরীক্ষাতে তার আর প্লেস থাকবে না ।

৯.৪৫ মিনিট এর দিকে রেডিসনের ইউ টার্ণে গিয়ে দেখা গেল ৩ জন ট্রাফিক সার্জেন্ট সহ ৪-৫ জন পুলিশ মিলে ইউটার্ণ বন্ধ করে দিয়ে সব গাড়ি সামনে মানে বনানীর দিকে পাঠিয়ে দিচ্ছে । এবার হাত পা ঠান্ডা হওয়ার যোগাড় কারন এই স্কুলে কোন এক্সকিউজ গ্রহনযোগ্য নয় , পরীক্ষায় তো নয়ই ।

অনোন্যপায় হয়ে বুকে সাহস ও আশা নিয়ে সবচেয়ে সিনিয়র সার্জেন্ট যার পরনে হলুদ জ্যাকেট তাকেই অনুনয়ের সুরে অনুরোধ করলাম আমাকে যেতে দিতেই হবে কারণ মেয়ের পরীক্ষার ৪৫ মিনিট দেরী হয়ে গেছে । উনি আমাকে হতাশ করে বললেন আপনার ১ জনকে ছাড়লে অন্য সবাইকে ছাড়তে হবে , কাউকে আটকাতে পারবোনা । পরোক্ষনেই বলে বসলেন , প্রয়োজনে আমার মোটর সাইকেলে করে আপনার মেয়েকে স্কুলে পৌছায়ে দিয়ে আসছি । নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না । বলা মাত্রই কিছু বুঝার আগেই পলকেই মেয়েকে মোটর সাইকেলে উঠিয়ে ইউটার্ণ নিয়ে ভো ভো টান যেন মোটর সাইকেলের রেস দেখলাম।সম্বিত ফিরতেই বুঝলাম ভুল করে ফেলেছি আমি সাথে না গিয়ে কারন গত ১০ বছরে নিজস্ব ড্রাইভারের সাথে একা স্কুলে পাঠাইনি সে কিনা আজ একা ছেড়ে দিলাম অপরিচত এক মানুষের সাথে যার নাম পদবী কি তা জানা নেই । বাবা মনের অজানা আশংকায় সিদ্ধান্ত নিলাম দেরী হলেও স্কুলে গিয়ে খোজ নিব মেয়ে সঠিক মতো পৌচেছে কিনা ।১০.১০ মিনিটে স্কুলে পৌছে দারোয়ানের কাছে জানলাম আনুমানিক ২০-২৫ মিনিট পুর্বে সে পরীক্ষা কক্ষে ঢুকেছে যা একজন ট্রাফিক পুলিশ ওকে নামিয়ে দিয়ে গেছে ।

হাফ ছেড়ে আল্লাহর কাছে শোকরিয়া আদায় করে নাম না জানা পুলিশ সার্জেন্ট ভাইটিকে মনে মনে ধন্যবাদ জানালাম । ভাবলাম আমার মেয়ের বয়সী হয়তো উনার মেয়ে বা বোন বা অন্য কেও আছে বা এটাও হতে পারে উনি এটাকে উনার দায়িত্ব মনে করেছেন , একজন সত্যিকারের বিপদগ্রস্হকে সাহায্য করা , যা আমরা জনগন উনাদের কাছ থেকে আশা করি প্রতিনিয়ত।

আশা এখনও ফুরিয়ে যায় নি !!

এখনও এমন অনেক পুলিশ আছেন যারা প্রকৃতই জনগনের বন্ধু !! সাহায্যকারী !!

এই সকল ভাইদের নিয়ে পুলিশ প্রশাসন গর্ব করতে পারেন ।
জয়তু পুলিশ ভাইদের !!

ভালো হোক অজানা এই পুলিশ সার্জেন্ট ভাইটির , যে এখনো হয়তো রেডিশন হোটেল ইউটার্ণ এ বা অন্য কোথাও অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন জনগনের খেদমতে ।

স্যালুট !!